মনিটাইজেশন সম্পর্কে বিস্তারিত

মনিটাইজেশন কি?:

মনিটাইজেশন হলো এমন একটি পক্রিয়া যার মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে আয় করা সম্ভব। Monetization শব্দটি এসেছে Monetize থেকে যার অর্থ হচ্ছে কোন এসেট বা বিজনেস থেকে অর্থ উপার্জন করা। মনিটাইজেশন হল এমন একটি প্রক্রিয়া যা একটি লিগ্যাল চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওয়েবসাইট বা ব্লগের মনিটাইজেশন এর জন্য ভালো ট্রাফিক থাকতে হবে। এককথায় বলতে গেলে, ওয়েবপেইজ, ব্লগে বা ইউটিউব ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে যে উপায়ে আরনিং করতে পারা যায় সেই উপায়কেই বলা হয় মনিটাইজেশন।

ইউটিউব ভিডিও প্লে করলে আমরা ভিডিওর আগে, পরে এবং মাঝখানে বিভিন্ন রকমের বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। সেই বিজ্ঞাপন দাতা ইউটিউব এ টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়, তাদেরকে বলা হয় এডভারটাইজার (Advertizer) বা বিজ্ঞাপন দাতা। আর যার ভিডিওতে সেই বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয় তাকে পাবলিশার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বলে। সেই বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন বিড রেট, ভিউয়ার এর কান্ট্রি, ভিডিওতে ক্লিক এর সংখ্যা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সেই বিজ্ঞাপন থেকে পাবলিশার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এর একাউন্টে টাকা জমা হয়। এটি প্রাথমিক ভাবে ইউটিউব একাউন্টে জমা হয় এবং মাসের শেষে Google Adsense একাউন্টে জমা করা হয়। সেখান থেকে পাবলিশার অর্থাৎ ইউটিউব চ্যানেলের মালিকের ব্যাংক একাউন্ট এ টাকা জমা হয়।




ইউটিউবে মনিটাইজেশন করা যায় কিভাবে?:

ইউটিউবে মনিটাইজেশন ঠিক এমনই একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ভিডিও মনিটাইজ করে অর্থ উপার্জন করা যায়। মূলত ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জনের জন্য ইউটিউব মনিটাইজেশন ইনেবল করতে হয়। তবে শুরুতেই একাউন্ট খুলে চ্যানেলে মনিটাইজেশন অপশন পাওয়া যাবেনা। YouTube ভিডিওটি আপলোড করার পর পরই চাইলে ভিডিওটি গুগল বিজ্ঞাপনের জন্য এনাবেল করা যাবে। এজন্য YouTube একাউন্টটিকে AdSense একাউণ্টের সাথে কানেক্ট করতে হবে। এক্ষত্রে, AdSense একাউন্ট না থাকলে একটি একাউন্ট খুলে নিতে হবে আর YouTube এ Monetization অপশনটি এনাবেল করতে হবে। আর নতুন ইউটিউব একাউন্ট হলে মনিটাইজেশন অপশনটি পেতে হয়তো একটু অপেক্ষা করতে হবে। এরপর যেই ভিডিও আপলোড করা হোক না কেন, সেটি হতে হবে সম্পূর্ন নিজস্ব কাজ। ভিডিওটিতে প্রদর্শিত এ্যাড থেকে ইনকাম শুরু হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ভিডিওটি যেন ইউনিক হয়। আর একটি কথা তাড়াতাড়ি মনিটাইজেশন ইনেবল করতে চাইলে চ্যানেলে ইউনিক ভিডিও আপলোড করতে হবে এবং সাবস্ক্রাইব বাড়াতে হবে আর এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে হবে।

মনিটাইজেশন এপ্লিকেশন এর নতুন শর্তগুলি কিকি?

চ্যানেল মনিটাইজ করার জন্য ইউটিউব তাদের নতুন আপডেটে ৪টি শর্ত দিয়েছে। প্রথমত, চ্যানেলে কমপক্ষে ১০,০০০ ভিউ হতে হবে, দ্বিতীয়ত, চ্যানেলে অবশ্যই ৪,০০০ ঘণ্টা Watch-Time থাকতে হবে, তৃতীয়ত, চ্যানেলে কমপক্ষে ১,০০০ Subscribers থাকতে হবে এবং ৪র্থ শর্ত হল অনেকটা এরকম যে উপরের ৩টি শর্ত অবশ্যই চ্যানেলটি খোলার ১ বছরের মধ্যে পূরণ করতে হবে। এ ৪টি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত চ্যানেলটি মনিটাইজ করা যাবেনা। তাছাড়া যদি চ্যানেলটি খোলার ১ বছরের মধ্যে ১ম ৩টি শর্ত পূরণ করা না যায় তাহলে চ্যানেলটি আর কখনো মনিটাইজ করা যাবেনা।

ইউটিউব এ এ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এপ্ররুভ করার প্রক্রিয়া:

Basic Steps:

১. প্রথমেই একটি Gmail Account লাগবে। সঠিক ইনফর্মেশন দিয়ে একটি Gmail Account তৈরি করতে হবে।

২. ইউটিউব.কম গেলে জিমেইল এর নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে। এখন প্রথম কাজ শেষ।

এখন পরের কাজ হলো

Advance Steps:

১) Click On Your Avatar>Creator Studio>Channel>Advanced এ যেতে হবে। Country বাংলাদেশ থেকে ইউনাইটেড স্টেট্‌স এ পরিবর্তন করতে হবে।

২) Channel>Status and Features এ চ্যানেল ভেরিফাই করতে হবে।

৩) Enable Monetization. স্টেপসগুলো অবলম্বন করে Enable করতে হবে।

৪) ১৫ মিনিটের দীর্ঘ ভিডিও আপলোড করার জন্য Longer Videos Enable করে নিতে হবে।

৫) Channel>Monetization>How will be i get paid এ ক্লিক করতে হবে। স্টেপসগুলো অবলম্বন করতে হবে এবং সঠিকভাবে ব্যক্তিগত ইনফর্মেশন দিয়ে এ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

বিঃদ্রঃ এ্যাডসেন্স এ্যাপ্লাই করার আগে ২-৩টা Unique ভিডিও আপলোড করে নিলে এপ্ররুভ পেতে কোন সমস্যা হবে না।




 

মনিটাইজেশন পেতে কত গুলি ভিডিও আপলোড করতে হবে?:

একটি চ্যানেলে কতগুলি ভিডিও থাকলে মনিটাইজেশন পাওয়া যাবে এটার সঠিক কোন উত্তর দেয়া মুশকিল। তবে যেসব চ্যানেলে নিয়মিত বিরতিতে ভিডিও দিয়ে থাকেন তাদের চ্যানেলগুলি দ্রুত মনিটাইজেশন পায়। তার মানে এই না যে ৩ মাস পর পর একটি করে ভিডিও দিয়ে নিয়মিত বোঝানো হচ্ছে, বেস্ট প্র্যাকটিস হিসাবে সপ্তাহে একটি বা মাসে অন্তত দুইটি ভিডিও দিলে তাকে নিয়মিত ভিডিও আপলোড বলা যায়। অনেক চ্যানেল আছে যেগুলিতে ২০০/৩০০ ভিডিও কিন্তু কোন ভিডিওতেই তেমন ভিউ নেই সেইসব চ্যানেলে মনিটাইজেশন পাওয়া একটু ঝামেলার। এই সব ক্ষেত্রে ইউটিউব ধরে নেয় ভিডিওর তেমন ভ্যালু নেই বা তেমন ইমপ্যাক্ট ফুল না। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক চ্যানেলের ভিডিও অনেক দেরিতে রাংঙ্ক করে, তার মানে এই না যে সেটি ইউটিউব এর পছন্দ নয়।

সাধারণত একটি চ্যানেলে অন্তত ২০/৩০ টি ভিডিও থাকলে এবং অন্যান্য কন্ডিশন ফুলফিল করলে মনিটাইজেশন এর জন্য এপ্লাই করা যেতে পারে। অনেকেই ৫/৬ টি ভিডিও দিয়েই মনে করেন কন্ডিশন যেহেতু ফুলফিল করেছেন অতএব এপ্লাই করে দেই। ইউটিউব এখন প্রতিটা চ্যানেল ম্যানুয়াল রিভিউ করে আর এমন ক্ষেত্রে যিনি রিভিউ করবেন অনেক ক্ষেত্রেই বুঝে উঠতে পারেন না যে আসলে চ্যানেলটি কোন ক্যাটাগরির। কেননা আমরা অনেকেই আছি যারা এক চ্যানেলে ১০ রকমের ভিডিও দেই। তাই ইউটিউব যাতে সহজে ভিডিওর ক্যাটাগরি বুঝতে পারে সেজন্য প্রথম দিকে অবশ্যই চেষ্টা করা উচিৎ নির্দিষ্ট কোন ক্যাটাগরির ভিডিও তৈরি করা।

ফেইসবুক মনিটাইজেশন

ইউটিউব এ প্রতিটি ভিডিও দেখার সময় যে বিজ্ঞাপন দেখায়, ঠিক তেমনি করে ফেইসবুকেও ভিডিও দেখানোর সময় বিজ্ঞাপন দেখাবে। যার নাম হবে “ফেইসবুক ওয়াচ”।

“ফেইসবুক ওয়াচ” বিশ্বজুড়ে সবার জন্য ভিডিও সেবা ‘ওয়াচ’ চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইউটিউবকে টেক্কা দিতে এই ভিডিও সেবা নিয়ে এসেছিল ফেইসবুক। এতে ইউটিউবের মতো বিভিন্ন ভিডিও দেখা যাবে। ফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় বিজ্ঞাপন সুবিধার মাধ্যমে ওয়াচ প্ল্যাটফর্ম থেকে বলার মতো মুনাফা করতে পারছেন ভিডিও প্রকাশকেরা। এখানে বিভিন্ন ফিচার শো করছেন তাঁরা।




Leave a Reply